বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কারণ ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় হত্যা মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর প্রগতি সরণির শাহজাদপুর বাঁশতলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাহাদুর হোসেন মনির। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও এমডি মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ এবং গ্রুপের কর্মকর্তা আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে ডিজিএফআইয়ের বিশেষ অভিযানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে শুরু করে অর্থ আদায়ের ঘটনার সঙ্গে তার নাম রয়েছে। এক-এগারোর সময় ডিজিএফআইয়ের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে কর্মরত ছিলেন আফজাল। যার প্রধান ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিন। আমিনের নেতৃত্বে আফজাল গ্রেপ্তার, নির্যাতনসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এক-এগারোর সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় এবং সেসব ঘটনার বর্ণনায় বারবার এসেছে কর্নেল আফজালের নাম। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে আফজালের বিরুদ্ধে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ধারণ করেন আফজাল। ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর নির্যাতনেও জড়িত ছিলেন এই সেনা কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
আফজাল ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে ইউনাইটেড হাসপাতালের সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু আফজাল চিকিৎসা দেবেন না বলে সরাসরি জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ে দায়িত্ব পালন করেন, যা এক-এগারোর সরকারের সময়কাল হিসেবে পরিচিত।


