মিয়ানমারে গোলাগুলি, আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ

মিয়ানমারে গোলাগুলি, আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও ভয়াবহ গোলাগুলি ও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে। গোলাগুলির শব্দে এপারে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে উঠছে, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে হোয়াইক্যং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টের ওপারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ৩-৪টি অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর থেকে দফায় দফায় গোলাগুলির শব্দ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে মানুষের বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। ওপার থেকে ছোঁড়া গুলি এর আগেও এপারে এসে পড়েছে, তাই মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

সীমান্তের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকায় মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নাফ নদীর ওপার থেকে আসা গুলিতে তিনি আহত হন।

আরেক জেলে আহমেদ উল্লাহ জানান, ওপারে প্রায়ই এমন গোলাগুলি হয়। ভয়ে এখন নাফ নদী বা চিংড়ি ঘেরে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছে না। রাতে ঘুমালেও মনে হয় এই বুঝি কোনো বিপদ হলো।

আরও পড়ুন

বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নাফ নদীর মধ্যবর্তী হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর ও তোতার দ্বীপ এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাতের শব্দই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভেসে আসছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলেদের নাফ নদীতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সীমান্তবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তবর্তী মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বরও উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে একই ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad