ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উত্তরা ও দিনাজপুরের জমি, ছয়টি ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ গাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর জব্দ হওয়া জমির মধ্যে উত্তরার পাঁচ কাঠার প্লটসহ দিনাজপুরের ২৩ দশমিক ২১ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের ১৮ দশমিক ০৬০৬ একর জমির মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৮ টাকা। আর পাঁচ দশমিক ১৪৯৪ একর জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল হিসাবে পাওয়ায় ওই জমির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর উত্তরার পাঁচ কাঠার প্লটের দাম দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা।
এছাড়া খালিদ মাহমুদের ছয়টি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে থাকা তিন কোটি ১৪ লাখ নয় হাজার ২৬৩ টাকা, তিন লাখ টাকার একটি এফডিআর, দুই লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকার একটি সেভিংস সার্টিফিকেট এবং ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি গাড়ি অবরুদ্ধ করারও আদেশ দিয়েছে আদালত।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এ আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসামি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। সাবেক এই নৌ প্রতিমন্ত্রী অবৈধ উপায়ে অর্জিত এসব সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বা অন্য কোনো পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন করে দেশের বাইরে গিয়ে আত্মগোপন করতে পারেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তার অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এর আগে, গত বছরের ৮ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নামে ১১টি ব্যাংক হিসাব ছাড়াও পাঁচটি ব্যাংকের কার্ডে মোট ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এজন্য আসামির বিরুদ্ধে দুদক আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২৬ জুন খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।


