যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা প্রায় ১০০ একর জমি, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে আবেদন করেন সহকারী পরিচালক আল-আমিন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, কাজী নাবিল আহমেদের নামে পঞ্চগড় ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯৯ দশমিক ২ হাজার ১৯১ একর জমি রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকায় ১১ একর জমিতে ছয়তলা ভবনের এক-তৃতীয়াংশ, ১৯৫ শতাংশ জমি ও একটি প্লটের মালিকানা রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পদের দলিলমূল্য দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জব্দের আদেশ পাওয়া অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা। তার নামে থাকা ৩৬টি কোম্পানির বিনিয়োগ এবং ২৬টি ব্যাংক হিসাবও আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদক অভিযোগ করেছে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে সঙ্গতিহীন প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেন এবং তা দখলে রাখেন।
এ ছাড়াও তার নিজ নামে ও যৌথভাবে পরিচালিত ৪৫টি ব্যাংক হিসাবে ১০৯ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে।
দুদকের আবেদন অনুযায়ী, ‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে’ তার নামে থাকা সব স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আদালত এ বিষয়ে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন।


