দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
রাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার ৯টি একাডেমিক ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে মোট ৯৯০টি বুথে ভোট দেবেন ২৮ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।
মঙ্গলবার রাতেই শেষ হয়েছে প্রচার, বুধবার রাতের মধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন ২১২ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার ও বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। এ ছাড়া ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২ হাজার পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র্যাব মোতায়েন থাকবে। সব কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ব্যবহার করা হবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স।
রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে মমতাজউদ্দিন একাডেমিক ভবন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কলাভবন, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবন, জাবির ইবনে হাইয়ান ভবন, জামাল নজরুল ইসলাম ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভবন, জগদীশচন্দ্র একাডেমিক ভবন ও জুবেরী ভবনে।
প্রতিটি ভবনের নির্দিষ্ট কক্ষে নির্দিষ্ট হলের ভোটগ্রহণ হবে। যেমন, মন্নুজান হলের ভোট হবে সমাজকর্ম বিভাগের ১৫৬ নম্বর কক্ষে, তাপসী রাবেয়া হলের ভোট রবীন্দ্র ভবনের ১৪৬ নম্বর কক্ষে, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ভোট শহীদুল্লাহ ভবনের বাংলা বিভাগের ১৫০ নম্বর গ্যালারি কক্ষে।
জামাল নজরুল ইসলাম ভবনে বিজয়-২৪ ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের ভোট, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভবনে শেরে বাংলা ফজলুল হক ও মতিহার হলের ভোট, আর জগদীশচন্দ্র ভবনে মাদার বখশ ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভোটগ্রহণ হবে।
নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, ভোট জালিয়াতি রোধে ভোটারদের পরিচয় তিন স্তরে যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড যাচাই করা হবে। এরপর ইউনিক ভোটার আইডি ও ছবিযুক্ত কার্ড মিলিয়ে দেখা হবে। সন্দেহ হলে গোপনীয় কিউআর কোড স্ক্যান করে চূড়ান্ত যাচাই করা হবে।’
ভোটার সংখ্যার বাইরে কোনো অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়নি বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, ‘২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য ঠিক সমানসংখ্যক ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ছাপানোর নিরাপদ প্রক্রিয়ার মতো আট ধাপ অতিক্রম করে এই ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছে।’
এবারের নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৩টি পদের জন্য প্রার্থী ২৪৭ জন। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন এবং এজিএস পদে ১৬ জন লড়ছেন। বাকি ২০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০০ প্রার্থী।
সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫টি পদের বিপরীতে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী লড়ছেন।
ভোট শেষে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে গণনা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।


