একটি মহল অত্যন্ত ‘পরিকল্পিতভাবে’ একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী নির্বাচন ঘিরে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘একটি মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে। পরিকল্পিতভাবে ভুলিয়ে দিতে চাইলেও তারা সফল হবেন না। কারণ একাত্তরই আমাদের জন্মভূমি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে “গোলমাল” আখ্যা দিয়েছিল, কিন্তু জাতি সেটা ভুলে যায়নি।’
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের তিন মাসের মধ্যে যদি নির্বাচন হয়ে যেত তাহলে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পেত না। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই।
দলের ঘোষিত ৩১ দফার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে সব সংস্কারের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমরা সংস্কারের পক্ষে আছি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কী হবে না, তা আগামী সংসদ নির্ধারণ করবে। না হলে নির্বাচন হবে না, এসব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবুও সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতে বসে বিভিন্ন মিডিয়াকে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করা উচিত, কারণ তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি এখন অর্জুন গাছের ছালের মতো, যার যখন প্রয়োজন, কেটে নিয়ে যায়। দেশ বর্তমানে বহুরূপীদের খপ্পরে পড়েছে। এখন বিএনপির করণীয় হলো ধৈর্য ধরে সময়ের অপেক্ষা করা।
‘জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতা এক সময় জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, গলাকাটা পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের অনেক সদস্য ছাত্রলীগের ভেতর থেকে বের হয়েছে। জামায়াতও এখন রূপ বদলাতে শুরু করেছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে সমাবেশ করছে, যাতে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।


