ভবঘুরে বৃদ্ধের ‘জোর করে চুল কেটে’ ভাইরাল ভিডিওর একদিন পর অভিযুক্ত ‘হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশের’ একজন প্রতিনিধি ফেজবুক পেজের লাইভে এসে দাবি করেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোন’ থেকে তারা ওই কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মুসুল্লির পোশাকে কৈফিয়ত দিলেও লাইভে আসা ব্যক্তিটি তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এমনকি বিভিন্ন ভবঘুরের চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও ক্লিপ একই ফেসবুক পেজে দেওয়া হলেও আলোচিত ভিডিওটি পেজে দেওয়া হয়নি।
‘হিউম্যান সার্ভিসের’ ওই মুখপাত্র জানান, বৃদ্ধের চুল কাটার ঘটনাটি নেত্রকোনা কাশীগঞ্জের।

তার দাবি, এলাকাবাসীর টেলিফোনে অনুরোধ পেয়ে তারা ওই বৃদ্ধের চুল কাটেন।’এতে ওনার আত্মা শান্তি পাবেন’, বলেন মুখপাত্র।
তবে মূল ভাইরাল ভিডিওতে ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে চিৎকার করে আহাজারি করতে শোনা যায়; এ সময় অন্তত তিন ব্যক্তিকে তার ‘দুই হাত চেপে’ ধরে ‘জোর করে চুল কাটতে’ দেখা গেছে। বৃদ্ধ এক পর্যায়ে আহাজারি করে শুধু বলেন, ‘আল্লাহ তুই দেহিস!’

ওই ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় দেশে- বিদেশে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বয়ে গেলেও আইশৃংলা বাহিনী এখনো এর বিরুদ্ধে কোন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যায়নি।
ওই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক)।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘এটি অমানবিক, অবৈধ এবং সংবিধান ও মৌলিক মানবাধিকারগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে জোর করে একজন পথচারীর চুল কেটে দিচ্ছে। এ ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ প্রতিটি নাগরিককে আইনের আশ্রয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে আসক বলছে, ‘অনুচ্ছেদ-৩২ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে এবং অনুচ্ছেদ-৩৫ কারও প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করেছে।’


