দীর্ঘ ছয় বছর পর নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন গোটা দেশের রাজনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রচার-প্রচারণা শেষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঘোষণা অনুযায়ী, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে। যা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
গত ২৯ জুলাই তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা দেশ। প্রতিবারের মতো এবারও দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই নির্বাচন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির উত্থান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ফাটল, নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার কারণে নির্বাচনে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ না থাকা; সবই এবারের ডাকসু নির্বাচনকে রেখেছে আলোচনায়।

কত প্রার্থী, কত ভোটার
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।

ভোটকেন্দ্র ও বুথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৮টি ভোটকেন্দ্রে বুথ থাকবে ৮১০টি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে জনপ্রতি গড়ে ১০ মিনিট নিলেও বিকাল ৪টার মধ্যে ভোট শেষ করা সম্ভব হবে।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খালি ব্যালট বাক্স সংবাদকর্মীদের সামনে সিলগালা করা হবে। এরপর সেগুলো নেওয়া হবে বুথে।
এই নির্বাচন স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোট গণনা ‘সরাসরি’ এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে।
পুলিশের বিশেষ নির্দেশ, নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনকে সামনে রেখে আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সে অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ডাইভারশন করা হবে। শাহবাগ, হাইকোর্ট, নীলক্ষেত, শহীদুল্লাহ হল ও পলাশী ক্রসিংয়ে ডাইভারশন কার্যকর থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়গামী যানবাহনকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছে ডিএমপি। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। একই সঙ্গে নগরবাসী, চালক ও যাত্রীদেরকে নির্ধারিত ক্রসিং ও সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
এছাড়া জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন এবং প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।

নিরাপত্তায় পুলিশ
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি।
এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের জন্য আটটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পুলিশের ফুট প্যাট্রোল ও মোবাইল প্যাট্রোল টিম নিয়োজিত থাকবে। সাদা পোশাকে ডিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সিটিটিসির বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
ভোটের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২ হাজার ৯৬ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শাটল বাস
নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে চক্রাকারে শাটল সার্ভিস চালু থাকবে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই সার্ভিস।

রুটম্যাপ অনুযায়ী, শাটল সার্ভিস ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে শুরু হয়ে কার্জন হল, শাহবাগ, টিএসসি, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাব, ইউল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিনেট ভবন ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ঘুরে আবার ভূতত্ত্ব বিভাগে ফিরবে।
বন্ধ থাকবে মেট্রো স্টেশন
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ইস্যুতে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রোরেলের ঢাবি স্টেশন।
ভোট গ্রহণের দিন সারাদিনই বন্ধ থাকবে এই স্টেশনটি। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার বিকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ রাখা হয়েছে।


