সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়।
এসআইবিএল সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির এই উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) সনদ জালিয়াতির বিষয়টি বর্তমান প্রশাসকের নজরে আসে। এই বিষয়ে তাকে প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাকা হলে অভিযুক্ত মামুন মাহমুদ পদত্যাগপত্র জমা দিতে চান। তবে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া না হলে ৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন।
এই ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে জানিয়ে এসআইবিএলের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান মো. শাহরিয়ার খান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, মামুন মাহমুদের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি আমাদের নজরে আসে। এ নিয়ে তাকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ডিএমডি মামুন মাহমুদ। টাইমসকে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ একজন ডিএমডিকে চাকরিতে রাখতে চায়। এজন্য আমাকে সরাতে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
‘আমার সনদ যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছি। আশা করি আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন হাতে পাব,’ যোগ করেন মামুন।
জানা গেছে, মামুন মাহমুদ চাকরির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক এই সনদ যাচাই করে দেখেছে, এটি মূলত তিতুমির কলেজের সনদ। এ ছাড়া তিনি স্নাতক পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি পেলেও জালিয়াতি করে দ্বিতীয় শ্রেণি দেখিয়েছেন।
মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ বছর বিদেশে চাকরি করে পরে বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে চাকরি নিয়েছেন।
নথি বলছে, ২০১১ সালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন মামুন। এরপর তিনি ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। চলতি বছরের ২১ জুলাই তিনি এসআইবিএলে যোগ দেন।
একীভূত করার প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকটি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক রেজ্যলুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এটির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দীন।
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ সংকটাপন্ন ব্যাংককে একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


