ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেন, তাহলে এই সংসদের কোনো মূল্য নেই বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যদি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ না নেয়, তাহলে এই জাতীয় সংসদের আসলে এক আনা মূল্যও নাই। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এটা শুধু জাতীয় সংসদ হওয়ার জন্য নির্বাচন হয়নি, হয়েছিল সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যকর করার জন্য।’
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার খামারবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই আহ্বায়ক।
শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই ক্ষমতাসীন দল গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে গণভোটে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। যেখানে গণভোটের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা আছে একই দিনে শপথ নিতে হবে। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের মতোই সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই শপথ থেকে বিরত থেকেছে।’
এনসিপি আহ্বায়ক বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বলেন, ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাক্ষীদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যারা ভিক্টিম ছিল, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে, তাদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং তারা নানান হুমকির মুখে আছে। ফলে আমরা খুবই সন্দিহান যে বিচার প্রক্রিয়া এই সরকারের আমলে সুষ্ঠুভাবে হবে কিনা।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরকে সরিয়ে একজন ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিগত সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর সেই লুটপাটের টাকা ফেরত আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আমরা দেখছি সেই বিচার প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করতে, ঋণ খেলাপীদেরকে আরো সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দখলের একটা নির্লজ্জ চেষ্টা করল সরকারি দল।’
বর্তমান গভর্নরকে সরিয়ে একজন দক্ষ, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংসদে যদি কথা বলার সুযোগ না থাকে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আন্দোলন রাজপথে গড়াবে।’
‘সংসদে অবশ্যই সংস্কার পরিষদ হতে হবে। যদি সংসদ সংস্কার পরিষদ না হয়, সংসদে যদি কথা বলার জায়গা না থাকে তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা রাজপথের প্রস্তুতি নিচ্ছি ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঘটতে দেবেন না বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিষয়ে পুনরায় তদন্তের গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি বিচার নিশ্চিত করতে হয়, অবশ্যই আগে যারা জুলাই যোদ্ধা, যারা আহত হয়েছে, শহীদ হয়েছে, তাদের বিচার আগে নিশ্চিত করতে হবে। এই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে যদি আবার বিতর্ক তৈরি করা হয়, তাহলে জনগণ বাধ্য হবে রাজপথে নামতে।’
নাহিদ ইসলাম রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ঈদে যানবাহনের টিকিট যাতে ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যায় ও কালোবাজারি বন্ধ হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আবারো স্বৈরতন্ত্রের আঁতুড়ঘর না হয় এবং হলগুলো যাতে গণরুম–গেস্টরুমে পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্রশক্তির।
পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।


