জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপিকে দীর্ঘদিন ধরে কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে প্রকাশ্যে এসে নতুন করে আলোচনায় আসেন। পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় জিডি হলে প্রকাশ্যে আসে তার বিয়ে ও সন্তানের খবরও।
বর্তমানে সংসার আর সন্তান নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই নন্দিত নায়িকা। বুধবার তার জন্মদিন। জন্মদিন প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘যখন নিয়মিত সিনেমায় কাজ করেছি, তখন জন্মদিন ছিল উৎসবের মতো। সারাদিন ভক্তরা আসতেন, ফোন করতেন, কেউ কেক-ফুল পাঠাতেন। কখনো শুটিং সেটেই জন্মদিন কেটেছে। ভক্তক্লাবগুলো দেশজুড়ে নানা আয়োজন করত। এখন জন্মদিন কাটবে ঘরোয়াভাবেই। কিছু এতিমখানায় কোরআন খতম ও খাবারের আয়োজন করেছি।’
জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হয়, তবে নিজের ভিত্তি শক্ত না করে সবার জন্য সব বিলিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। একসময় ভেবেছিলাম সবাই আমার, পরে বুঝেছি আসলে কেউ নয়। সেই কঠিন সময়ে ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষ আর স্বামী আদনান পাশে ছিল। তাঁর সমর্থনেই পথচলা সহজ হয়েছে।’
পপি অভিনীত ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমার কাজ আবার শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তিনি। তার ভাষ্য, ‘এখন কিছু বলা সম্ভব নয়। আপাতত অভিনয় করছি না, সংসার নিয়েই ব্যস্ত আছি।’
তবে শিগগির মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত ছবি ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’। সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত এ ছবির শুটিং হয়েছিল ২০১৯ সালে, আর ২০২১ সালে এটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কাহিনিনির্ভর ছবিতে পপিকে দেখা যাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আমিন খান। পপির সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘দ্য ডিরেক্টর’ (২০১৯)।
২০২০ সালে তিনি ‘ধোঁয়া’ নামের আরেকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেও সেটির কাজ আর শুরু হয়নি। আড়ালে থাকার পর ২০২২ সালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে ভক্তদের সামনে আসেন পপি। তখন শুধু বলেছিলেন— ‘ভাগ্য থাকলে আবার ফিরব।’
ঢাকাই সিনেমায় পপির অভিষেক হয় মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন ওমর সানি। প্রথম ছবিতেই অভিনয় ও গ্ল্যামার দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলেন তিনি। এরপর একে একে ‘দরদি সন্তান’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘প্রাণের প্রিয়তমা’, ‘কারাগার’, ‘দু’জন দু’জনার’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘জীবন মানেই যুদ্ধ’, ‘বিদ্রোহী সন্তান’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কী যাদু করিলা’, ‘বস্তির রানী সুরিয়া’র মতো অসংখ্য দর্শকপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন।
অভিনয়ের জন্য পপি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন— ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ এবং ‘গঙ্গাযাত্রা’-এর জন্য।


