বিদ্যমান সংবিধানের আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে সামগ্রিক সংস্কারে সংসদীয় বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কার কমিটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে তবেই বিরোধী দল এতে অংশ নেবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদবিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ সংসদ সদস্যরা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ সংসদে বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে। আমরা নরম বা গরম কোনো ধরনের বিরোধী দল নই। জনগণ একটি যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা দেখতে পাবে।
তিনি জানান, বিরোধী দল সংসদে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা, সীমান্তে পুশইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মার্চে উপস্থাপনের কথা থাকলেও জুনে সম্পূরক বাজেট পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে বিপুল অর্থ ব্যয় অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থবছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারি করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিষয়ে সংসদে দেওয়া নোটিশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। একপর্যায়ে নোটিশটি সংসদের কার্যসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপ্রয়োজনীয় স্তুতি করে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জনগণের পক্ষে কথা বলাই সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব। অতীতে দেশে একদিকে সরকারনির্ভর বিরোধী দল, অন্যদিকে সংসদ বর্জন ও সংঘাতমুখী বিরোধী দলের চর্চা দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামী এই দুই ধারার কোনোটি অনুসরণ করবে না। জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে, প্রয়োজনে সমালোচনাও করা হবে। আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন আচরণও করব না। প্রয়োজনে ওয়াকআউট করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের পথে যাব না।


