শীতের পড়ন্ত বিকেল, কিন্তু ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের উত্তাপ তখন তুঙ্গে। ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের বিভাগীয় ফাইনালে জামালপুরের বকশিগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল দলটি।
বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ৬০ মিনিটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ময়মনসিংহ। বিশেষ করে ১০ নম্বর জার্সিধারী মারুফের পায়ের জাদুতে ম্লান হয়ে যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। মারুফ একাই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান দুবার। দলের জয়ে বাকি দুটি গোল করেন স্বাধীন ও ফয়সাল। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জামালপুরের ছেলেরা চেষ্টা করলেও ময়মনসিংহের গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়।
খেলা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি এবং নগদ ৬০ হাজার টাকার অর্থপুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি।
ফাইনালে জোড়া গোল করে এবং অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের ১০ নম্বর জার্সিধারী মারুফ। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান একই দলের স্বাধীন। তবে দল হারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলে ‘টুর্নামেন্ট সেরা’ খেলোয়াড়ের পুরস্কার ছিনিয়ে নেন জামালপুরের কাইসার।
ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এস এম সফিকুল হায়দর মুকুল ও বকশিগঞ্জ সরকারি কেয়ামত উল্লাহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। দুই কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম এলাকা পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়।
গত ২১ ডিসেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে বিভাগের ৪টি জেলার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ মিলিয়ে মোট ৮টি দল অংশ নেয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্বের চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় এবং রানার্সআপ বকশিগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ, উভয় দলই ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহের প্রতিনিধিত্ব করবে।


