শ্যামনগরে দেবে গেছে চরের মাটি, বন্যা আতঙ্কে ১০ গ্রাম

শ্যামনগরে দেবে গেছে চরের মাটি, বন্যা আতঙ্কে ১০ গ্রাম
সাতক্ষীরায় খোলপাটুয়ার চরের মাটি দেবে গেছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের খোলপাটুয়া নদীর চরের মাটি হঠাৎ দেবে যাওয়ায় বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন আশপাশের কমপক্ষে ১০ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, সম্প্রতি নদীর চরের মাটি দেবে যায়। এ ছাড়া নদীতে জোয়ারের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় চর ভেঙে, চরের দুর্বল অংশগুলো হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আনুমানিক ৫০০ ফুট জায়গা জুড়ে খোলপাটুয়ার পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চরের মাটি দেবে গেছে।

বুড়িগোয়ালিনীর ভামিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মোড়ল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে চরটির দেবে যাওয়া রোধ করা না গেলে, কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এসব অঞ্চলের কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সঠিক সময়ে সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন নদীর চর দেবে যাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখনও কোনো পদক্ষেপ তারা নেননি।

তিনি বলেন, ‘যদি দেবে যাওয়া স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা না হয় তাহলে আমার ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এখন ঘেরে মাছ চাষের সিজন হওয়ায় প্রতিটি ঘেরে প্রচুর পরিমাণ চিংড়ি মাছ রয়েছে। সুতরাং এসব এলাকা প্লাবিত হলে উপকূলের মৎস্য চাষীদের অনেক টাকার লোকসান হবে।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী অবিলম্বে নদীর চর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাউবো’র উপ-সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নীলডুমুর খোলপাটুয়া নদীর চর দেবে যাওয়া স্থানে জিও বস্তার ভিতরে বালু দিয়ে ডাম্পিং করা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad