ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে ও বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে দেশজুড়ে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রেখে এই কর্মসূচি পালন করছে মোবাইলফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সালমান তাদের চার দফা দাবিগুলো জানান। দাবিগুলো হলো–মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তি, এনইআইআর সিস্টেমের যথাযথ সংশোধন এবং ব্যবহৃত পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্যাট ও কর নির্ধারণ। দাবি পূরণ না হলে মোবাইলফোন ব্যবসায়ীরা দোকান খুলবেন না বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া, চলমান ধর্মঘটে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ কর্মচারী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে দাবি করেন এমবিসিবির।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমবিসিবির যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের কর্ণধার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম কয়েকজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।
তিনি দাবি করেন, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় কোনো মোবাইল ব্যবসায়ী জড়িত নন। বরং এটি তৃতীয় পক্ষের ষড়যন্ত্র। অথচ শেরেবাংলা নগর থানায় এবং পরবর্তীতে কারওয়ান বাজারে সংঘটিত ঘটনায় তেজগাঁও থানায় করা মামলার সূত্র ধরে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ মোবাইল ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে যোগ করেন তিনি।
এ সময় জুলাইয়ের অদ্ভুত্থানের ঘটনায় রামপুরা থানায় করা একটি মামলার ১৮ নম্বর আসামি হয়েও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না জানিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ফয়সাল আজাদ।
এমবিসিবি’র যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল জানান, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মোবাইল ফোনের দোকান এই কর্মসূচির আওতায় বন্ধ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
আমদানি শুল্ক কমাল এনবিআর
এদিকে ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এতে আমদানি করা মোবাইল ফোনে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাট মিলিয়ে মোট করের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের একটি আমদানি করা স্মার্টফোনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা এনবিআরের।
এ ছাড়া, মোবাইল ফোন সংযোজনকারী কোম্পানিগুলোর আমদানি করা উপকরণের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশে সংযোজন করা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনে প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
মঙ্গলবার দুটি আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এনবিআরের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এ ছাড়া, চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে মোবাইল ফোনের দাম কমানোর লক্ষ্যে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ এবং আমদানি করা মোবাইল ফোনে শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মধ্যেই ১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক হ্রাসের ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে এবং দেশের নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা নেওয়া আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।


