আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন ঝিনাইদহের চাষিরা। এসব শিম স্থানীয় বাজার, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরের পাঠাচ্ছেন তারা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে। তাতে লাভের আশা করছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগ বলছে, হরিণাকুণ্ডুর কাপাসহাটিয়া ইউনিয়নের গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া, রায় পাড়া ভাতুড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা আগাম শিমের আবাদ করেছেন। তবে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে এ বছর সবচেয়ে বেশি শিমের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে অন্যান্য সবজির সংকটে শিমের দাপট রয়েছে বেশ। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু না হলেও বর্তমানে যতটুকু চাষ হয়েছে তাতে ভালোই লাভবান হচ্ছেন তারা।
গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের চাষি ছানোয়ার হোসেন ১৩ শতক জমিতে ‘হাবিল’ জাতের শিমের আবাদ করেছেন। তার পাশের খেতে ছাত্তার হোসেন ২৩ শতক, নুরুল কালাম ২২ শতক, সুকুমার ২০ শতক ও সালাম ১৮ শতক জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। পার্শ্ববর্তী গ্রাম রায়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামে আনোয়ার হোসেন ২৩ শতক, মনোয়ার হোসেন ৪৬ শতক ও শাহিন নামে আরেক কৃষক ৩০ শতক জমিতে শিমের আবাদ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামে নিজের শিমের খেত পরিচর্যা করছেন ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সপ্তাহে প্রতি শতকে দুই থেকে তিন কেজি শিম উৎপাদিত হচ্ছে। এখনো গাছে পরিপূর্ণ ফসল আসেনি। তাতে এখনও একমাস সময় লাগবে। তবে, এখন বাজারে কিছু শিম ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।
রায়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামসহ আশাপাশের গ্রামে প্রচুর শিমের আবাদ হয়েছে। তবে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে পারছি না। সারেরও কিছুটা সংকট রয়েছে। পাওয়া গেলেও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’
চাষি নুরুল কালাম তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিমের খেত পরিচর্যা করছেন। তিনি বলেন, ‘চলতি বছর অন্যান্য সবজির আবাদ নষ্ট হওয়াই শিমের আবাদে লাভ হবে। তাই শ্রমিক না নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলেই প্রতিনিয়ত নিয়ম করে পরিচর্যা করছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর জানান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এ বছর ৩০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে। বাজারেও সারের সংকট নেই। কেউ সার না পেলে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করলে ব্যবস্থা করা হবে।
অসময়ে চাষের কারণে পোকার আক্রমণ বেশি হচ্ছে। তবুও চলতি বছর আবহাওয়া শিম চাষের অনুকূলে থাকবে বলে মনে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


