পারমাণবিক অস্ত্রধারী অন্য দেশ যদি ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও একই পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডার পাম বিচে যাওয়ার সময় এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ঝালাই করে নিতে চায় জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা শিগগিরই জানতে পারবেন, আমরা কিছু পরীক্ষা করতে যাচ্ছি। পারমাণবিক পরীক্ষা… যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তবে অনেকেই তা ভুলতে বসেছে। আমরা আবার মনে করিয়ে দিতে চাই।’
স্নায়ু যুদ্ধের সময়ের মতো ‘ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা’ হিসেবে এই পরীক্ষা পরিচালিত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অন্য দেশগুলো তো এটা করছে। যদি তারা করে, আমরাও করব।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের আগে ফের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় (পেন্টাগনকে) নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের পরীক্ষামূলক পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আমি যুদ্ধ দপ্তরকে (পেন্টাগন) নির্দেশ দিয়েছি- আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলোও যেন সমানতালে ফের পরীক্ষা শুরু করা হয়।’
এর মধ্য দিয়ে ৩৩ বছর পর ফের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে প্রতিদ্বন্দ্বী পারমাণবিক শক্তিধর দেশ চীন ও রাশিয়ার প্রতি সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্প আসলে পারমাণবিক বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষা (যা জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসন পরিচালনা করে) নাকি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পরীক্ষার কথা বলছিলেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে মালয়েশিয়া সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব (প্রতিরক্ষা মন্ত্রী) পিট হেগসেথ বলেন, ‘পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করা “পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখারই পথ। আমরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি।’
এক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা দপ্তর জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত নেভাডা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস, শুক্রবার সেনেটে একটি আইন প্রস্তাব করেছেন যেখানে বিস্ফোরণমূলক পারমাণবিক পরীক্ষা ফের শুরু নিষিদ্ধ করবে এবং এর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করবে।
টাইটাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই পরীক্ষা চালালে রাশিয়া ও চীনও একইভাবে উৎসাহিত হবে যা বিশ্ববাসীকে আবারও বিষাক্ত বিকিরণ ও পরিবেশগত ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।’
৯০ দশকের স্নায়ু যুদ্ধের পর উত্তর কোরিয়া ছাড়া কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ে কোনো বিস্ফোরণমূলক পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। সবশেষ উত্তর কোরিয়া ২০১৭ সালে বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষা চালায় যা নিয়ে সে সময় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়।


