প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। পাশাপাশি মঙ্গলবার তিনি শপথ নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও। নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার কথা উঠলে প্রথমেই আলোচনায় আসে তার নাম।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া তারও আগে চাঁদপুর-১ আসন থেকেই ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মিলন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকার সময়ে পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় বেশ আলোচিত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার নকল বিরোধী অভিযানগুলোর কথা এখনও আলোচনা করে মানুষ।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আ ন ম এহসানুল হক মিলন আবারো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন- এরকম মন্তব্যে মুখর হয়ে ওঠে নেটিজেনরা। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নেটিজেনদের অনেকে লেখেন ‘বাচ্চারা পড়তে বসো’।
অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভায় তার স্থান পাওয়ার মাধ্যমে কয়েকদিনের আলোচনার অবসান ঘটলো।
মিলন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদানের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির হাতেখড়ি হয় মিলনের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন মিলন। এরপর ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
এহসানুল হক মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায়। প্রায় ৭০ বছরের কোঠায় দাঁড়িয়ে এবার পূর্ণ পরিসরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।


