শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ‘প্রশ্নফাঁস’: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এনসিপির

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ‘প্রশ্নফাঁস’: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এনসিপির
Advertisement
Advertisement

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে দলটি।

সোমবার দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তর সই করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় একই ধরনের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব অনিয়মে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির মাধ্যমে তরুণ ও মেধাবী প্রার্থীদের স্বপ্ন ও সততার ওপর নির্মম আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি দাবিও উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো– প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা; প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।

এ ছাড়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর অবহেলা দেখালে চাকরি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেয় এনসিপি।

আরও পড়ুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরি ব্যবস্থায় বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে চাকরি পরীক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল সর্বপ্রথম চাকরি পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

দলটি অভিযোগ করে জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর গুণগত সংস্কারের পরিবর্তে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের কাজি মার্কেটের পিছনের একটি বাসা থেকে মিনারুল ইসলামসহ ছয় জনকে ‘প্রশ্নপত্রের’ ফটোকপি ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করে পুলিশ। অন্য আরেকটি অভিযানে একটি মাইক্রোবাস থেকে চালকসহ ‘প্রশ্নফাঁসের’ সঙ্গে যুক্ত আরও পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রের ভেতর ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে বেশ কিছু পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad