সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমাবেশ ও পদযাত্রায় পুলিশের হামলাকে ‘অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। শিক্ষকদের ওপর জলকামান থেকে গরম পানি নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৮ নভেম্বর ঢাকার শাহবাগে তিন দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শিক্ষকদের উপর পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং জল কামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক।’
‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে গঠনমূলক কোনো পদক্ষেপ দেখা না যাওয়াকে দুঃখজনক বলেও মনে করে আসক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আসক মনে করে, শিক্ষক সমাজ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের মূলভিত্তি। তাদের ওপর হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় বরং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। সম্প্রতি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতিও একই ধরনের আচরন লক্ষ্য করা গেছে, যা উদ্বেগজনক।’
‘সরকারের কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে এমন কঠোর পদক্ষেপ বারবার নিতে পারে তা বোধগম্য নয়।’
অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আহত শিক্ষকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানায় আসক। পাশাপাশি, শিক্ষকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।


