শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন মানা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের তো শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, রাস্তায় নয়। সরকার একবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আদায় করতে আবার মাঠে নামতে হচ্ছে–এটি দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষকদের অবহেলা ও নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষকদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এদিন বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থানরত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন শিক্ষক আহত হন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আহতদের অনেকে কানে শুনতে পাচ্ছেন না, অনেকের মাথায়, হাতে-পায়ে আঘাত রয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষকদের ওপর এমন আঘাত লজ্জাজনক। যে দাবি ২৮ জানুয়ারি আদায় করা হয়েছিল, সে দাবি বাস্তবায়নের জন্য আবার আন্দোলনে নামতে হচ্ছে–এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই না, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশে আর হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যও এখন আলাদা করে কথা বলতে হচ্ছে। অথচ কমিশন হয়েছে বাস্তবায়নের জন্যই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পনা হয়, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা থাকে না। এটি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।’
এ সময় এনসিপির আরেক নেতা বলেন, ‘গত দেড় বছরে সব মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলাম, শিক্ষকদের বিষয়ে যেন তারা আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় বসে সমাধান করে। কিন্তু তারা শুনছেন না বলেই শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে হচ্ছে।’
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিবের সঙ্গে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর কোনো সমাধান না আসায় বুধবার তারা ‘ভুখা মিছিল’-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে–অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ১ হাজার ৮৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই করা ফাইলগুলো দ্রুত অনুমোদন করে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি করতে হবে। এ মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করতে হবে।


