স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মানহানির অভিযোগ এনে তৃতীয় একজনের করা মামলায় জামিন পেলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকের রেজানুর ইসলাম।
রোববার তুমুল আলোচিত এই মামলায় বাদীপক্ষ যেমন জামিনের বিরোধিতা করেনি, তেমনি ভুল বোঝাবুঝি থেকে মামলার কথা জানিয়ে মীমাংসারও ইঙ্গিত দেয়। মামলা আর এগিয়ে নিয়ে না যাওয়ার বিষয়েও বলা হয় আদালতে।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে বগুড়ার সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান জামিন আবেদন গ্রহণ করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী তানজিম আল মেজবা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জামিনের আবেদনে বাদীপক্ষের আইনজীবী কোনো আপত্তি করেননি। ওনাদের বক্তব্য ছিল পারস্পরিক আলোচনা সাপেক্ষ আদালতের বাইরে একটি সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষ এও বলেছে, ‘ওনাকে জামিন দিয়ে দেওয়া হোক’।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে নিয়ে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকায় গত ১২ ও ১৩ জুন বেশ কিছু সংবাদ হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. তানভীর আলম বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন।
মোট চারজনের বিরুদ্ধে করা এই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলা গ্রহণ এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই মামলা গ্রহণের এখতিয়ার নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তৃতীয় পক্ষের হয়ে মানহানির মামলা করার এখতিয়ার কারও নেই।
পরে ১৭ জুন বগুড়া সদর থানায় যে মামলা করা হয়, সেখানে এজাহারে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ যোগ করা হয়। আসামির তালিকাতেও যোগ হয় নতুন নাম।
এই নতুন নামের একটি ছিল অগ্রযাত্রার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর, যাকে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ায় নিয়ে যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে শুক্রবার আদালতে তোলা হলে রোববার শুনানির কথা জানিয়ে এই সংবাদকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সেই রাতেই উদ্ভূত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বিবৃতি দেন। তাতে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন এবং গ্রেপ্তার করা সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন।
শুনানির সময় বাদী তানভীর আলম উপস্থিত ছিলেন না। তার হয়ে কথা বলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী আবদুল ওহাব।
আদালতে কী বলেছেন-এই প্রশ্নে তিনি টাইমসকে বলেন, ‘আমরা বলেছি ওটা (মামলা) ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। আমরা আর মামলার বিষয়ে আগাতে চাইছি না।’
তার মানে মামলা কি তুলে নেওয়া হবে?- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে, সেটা বাদী সরাসরি তুলতে পারবেন না। হয়ত ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেবে।’
সমঝোতা কী বিষয়ে হয়েছে জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘হয়ত রেষারেষির কারণে এই মামলা হয়েছে। এতে তো কারও লাভ নেই, প্রতিমন্ত্রীরও না, সাংবাদিকদেরও না। মাঝখান থেকে বিশৃঙ্খলা হবে।’
বাদী তানভীর আলম দাবি করেছেন, আসামিপক্ষ আদালতে মুচলেকা দিয়েছে যে তারা আর অপপ্রচার করবে না।
তবে রেজানুরের আইনজীবী বলেছেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর আমরা তার কাছে ওকালতনামা নিয়েছি। তারপর মামলার বিষয়ে কথা বলেছি। এই ধরনের কোনো কথা তো আমাদের কানে আসেনি। আর আদালতেও তো এই ধরনের কোনো কথা হয়নি।’


