শাহজালালে আগুন: ভল্ট থেকে ‘চুরি হওয়া’ অস্ত্রের হদিস মেলেনি   

শাহজালালে আগুন: ভল্ট থেকে ‘চুরি হওয়া’ অস্ত্রের হদিস মেলেনি   
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে আগুনের সময় ভল্ট থেকে ‘চুরি হওয়া’ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।

গত ১৮ অক্টোবরের ওই আগুনেও অক্ষত ছিল আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের ভল্ট। কিন্তু সেখান থেকে হারিয়ে যায় সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র। অগ্নিকাণ্ডের ১৪ দিন পর গত রোববার দুপুরে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ভল্ট থেকে অস্ত্রগুলো খোয়া যাওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে।

এরপর থেকেই অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে তাদের তদন্তেও লুট হওয়া ওই অস্ত্রগুলোর কোনো হদিস মিলছে না। এমনকি কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো বিমানবন্দরের থেকে কে বা কারা, কিভাবে সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

তদন্তকর্মীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিতের পাশাপাশি এর নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-ফোর কারবাইন ও ব্রাজিলের তৈরি টরাস পিস্তল। তবে কোন অস্ত্রের কয়টি মডেল হারিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন

এদিকে সুরক্ষিত ওই ভল্ট ভেঙে অস্ত্র হারানোর ঘটনা জানাজানির পর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ভয়াবহ ত্রুটির বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বিমানবন্দর থানার পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং পুলিশ সদর দপ্তরকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে জানান, ভল্ট ভাঙা নিয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি হয়েছে। তাতে কয়েকটি অস্ত্র মিসিং হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে জ্বলা আগুনে পুড়ে যায় আমদানি করা মালপত্রের বড় অংশ। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এই আগুনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে ভয়াবহ ওই আগুনের আঁচ লাগলেও প্রায় পুরোপুরি অক্ষত ছিল কমপ্লেক্সের স্ট্রং রুমের ভল্টে রাখা জিনিসপত্র। আগুন নেভানোর পর বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ওই স্ট্রং রুম সিলগালা করা হয়।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, কার্গো আমদানি কমপ্লেক্সের স্ট্রং রুমের ভল্টে সাধারণত মূল্যবান জিনিসপত্র এবং জরুরি কাগজপত্র রাখা হয়। এছাড়া বেশি মূল্যবান কিছু আমদানি করা পণ্য সাময়িকভাবে ভল্টে রাখা হয়। সেখান থেকে পণ্য বের করতে হলে কয়েকজনের স্বাক্ষর লাগে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে বলেই এটিকে বলা হয় স্ট্রং রুম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad