রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সেবাকে দলটির মূখ্য অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বুধবার বিকালে রাজধানীতে দলটির ঘোষিত ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত।
তিনি বলেন, ইশতেহার জাতির প্রতি দলটির প্রতিজ্ঞা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করা হবে।
দলটি জানায়, ইশতেহারের মৌলিক অংশে ৩০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রের নীতিগত সংস্কার, সুশাসন, নাগরিক সমস্যার সমাধান এবং জরুরি নাগরিক সেবা নিয়ে অবস্থান রাখা হয়েছে।
ইশতেহারে বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে ১২ দফাও ঘোষণা করা হয়েছে বলে দলটির নেতারা জানান।
ইশতেহারের ভূমিকা অংশে দলটি বলেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক ও নীতি নির্ধারিত হয়, এবং নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে দলীয় নীতি ও দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।
দলটি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, আহত এবং আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, সেই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে।
রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত ৮ দফায় দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, সব ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার-সম্মান, পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন-স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা, বৈষম্যবিরোধিতা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছে।
দলটি ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবার তথ্য উন্মুক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের কথাও ইশতেহারে রেখেছে।
দুর্নীতির বিষয়ে দলটি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা বলেছে এবং সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকানোর অঙ্গিকার করেছে।
রাষ্ট্র সংস্কারে ৬ দফায় দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন, রাজস্ব আয়-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং স্বনির্ভর বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে।
ইশতেহারের মৌলিক অংশে দলটি দুর্নীতি-দুঃশাসন-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র, সুশাসন ও ন্যায়বিচার, কৃষি ও শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে বেকারত্ব-দারিদ্র্য কমানো, সর্বজনীন কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিবেশ দূষণ রোধ, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশেষ কর্মসূচির ১২ দফায় হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার, ১৮ থেকে ২৪ বছরের যুবদের জন্য সুদমুক্ত জামানতবিহীন এককালীন ঋণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা বা স্বাস্থ্যকার্ড এবং ন্যাশনাল জব পোর্টাল চালুর কথা বলা হয়েছে।
দলটি কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র, ঢাকাসহ সব নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা, সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা, নারী পোশাক শ্রমিকদের আবাসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙা এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করেছে।


