কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার ‘লালন একাডেমির’ জন্য লালন সাঁইয়ের ঐতিহাসিক ৩১৪টি গানের মূল পান্ডুলিপি ফেরত চেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। এরই মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তার স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় বিষয়টি জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
লিখিত আবেদনে জেলা প্রশাসক জানান, প্রায় ১৩৩ বছরের পুরনো লালন সাঁইয়ের গানের খাতায় ৩১৪টি গান রয়েছে। এর আগে, শান্তি নিকেতন থেকে তার গানের পান্ডুলপির একটি অনুলিপি পাঠানো হলেও মূলকপিটি সেখানেই রয়ে গেছে। প্রতি বছর লালন তিরোধান দিবস ও লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে লক্ষ লক্ষ দেশ-বিদেশী লালন ভক্ত, অনুরাগী, অনুসারী ও লালন গবেষকদের আগমন ঘটে। তাদের সকলের পক্ষ থেকে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতার শান্তি নিকেতন থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে ফেরত আনার দাবি উঠেছে।
লালন গবেষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লালন গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য লালন সাঁইয়ের গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতার শান্তি নিকেতন থেকে সংগ্রহ করে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
সভায় জানানো হয়, এবার জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস পালন করা হবে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালনের আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। আর গ্রামীণ মেলা হবে সাত দিনব্যাপী।
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আশ্রম থেকে লালন সাঁই’র ৩১৪টি গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন শিলাইদহের তৎকালীন জমিদার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রায় ১৩৫ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক সেই গানের মূল পান্ডুলিপি বর্তমানে কলকাতার শান্তি নিকেতন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল পান্ডুলিপি ফেরত আনার দাবি জানিয়ে আসছেন লালন ভক্ত, অনুরাগী, অনুসারী ও গবেষকরা। কিন্তু শান্তি নিকেতন থেকে ঐতিহাসিক সেই পান্ডুলিপিটি আজও ফেরত পাওয়া যায়নি।
ফকির লালন সাঁই মুখে মুখে পদ রচনা করতেন। সেসব কথা সুরের ভুবনে বাধা পড়লেই রূপ নিতো গানে। তাই লালনের মুখনিঃসৃত বানী লিখে রাখতেন তার শিষ্যরা। লালনের জীবনদশায় ভোলাই শাহসহ তার কয়েকজন শিষ্য গানগুলো লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। দুটি খাতায় লিখে রাখা হয় পাঁচ শতাধিক গান। বাউল পদাবলীর অনুরাগী হয়ে এরই একটি খাতা নিয়ে যান শিলাইদহের জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


