সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার রাতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে তিনি তার বহনকারী বাসে বসেই স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে সই করেন।
রাত ১০টায় দলীয় নেতাকর্মী ও গাড়িবহর নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে পৌঁছান। এ সময় দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন। স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন।
এদিন জুমার পর থেকে সাভার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়কের পাশে অবস্থান করে তারেক রহমানকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় থাকেন।
শুধু নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে আসা সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন।
এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ধামরাই, কালিয়াকৈর, মির্জাপুর, টঙ্গীসহ ঢাকার প্রবেশ পথে প্রায় ৮ ঘণ্টা যানজট দেখা গেছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তার বাবা দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে সাভারের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান।
তবে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রবল ভিড়ের কারণে দেরি হওয়ায় তার পক্ষে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির নেতারা।
তিনি রওনা হওয়ার পর ৫টা ৬ মিনিটে নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে স্মৃতিসৌধের বেদিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায় ও আবদুল মঈন খান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দেওয়ানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তমিজউদ্দীন, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, আইয়ুব খান, ফজলে এলাহী আকবর এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
স্থানীয় নেতারা বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের এই উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ, যা এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকা সাজিয়ে রাখা হয়। পাশাপাশি সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পুরো কমপ্লেক্স পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


