বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ একদল সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মী নিয়ে গাজার দিকে যাত্রা করা ‘কনসায়েন্স’ নামক জাহাজ ঘিরে একটি সামরিক বিমানকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। জাহাজে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা এটি ইসরায়েলি যুদ্ধ বিমান বলে ধারণা করছেন; তারা বলছেন, বিমানটি তাদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে আকাশে চক্কর দিচ্ছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পর ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে গাজা অভিমুখে রওনা হয়েছে আরও ১১টি জাহাজ। ‘কনসায়েন্স’ জাহাজ থেকে গাজার উদ্দেশে দুঃসাহসিক যাত্রার লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে, প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
রোববার শহিদুল আলম তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে জাহাজের ওপর দিয়ে একটি সামরিক বিমান উড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে জাহাজের মানবাধিকারকর্মী উইলিয়াম আলেকজান্ডার বলেন, ‘বিমানটি আমাদের চারপাশে কয়েকবার চক্কর দিচ্ছে, তারপর আমাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়েছে। এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড। আমরা নিশ্চিত যে, এটি ইসরায়েলি বিমান। তারা আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, তবে এখন পর্যন্ত সবকিছু নিরাপদ রয়েছে।’

জাহাজের অন্য এক স্বেচ্ছাসেবক তাদের উত্তেজনা এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন। ‘স্বাভাবিক থাকুন, আমাদের সঙ্গে তাদের খেলতে দেবেন না,’ তিনি বলেন।
‘কনসায়েন্স’ জাহাজে শহিদুল আলমসহ একটি দল গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে, সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা নিয়ে। জাহাজের ক্যাপ্টেন ম্যাডেলেইন হাবিব জানান, তাদের লক্ষ্য গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তারা গাজায় স্থায়ী মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
ওই ভিডিওতে মার্কিন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা টম হায়েস বলেন, ‘আমাদের উচিত বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়।’
এদিকে, শহিদুল আলম ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, জাহাজের গতির কারণে তাদের গাজায় পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হবে, তবে তাদের মনোবল দৃঢ় রয়েছে।


