রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে এবারের আইপিএলের মিনি নিলাম থেকে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও মিনি নিলামে এই বাঁহাতি পেসারের নাম শর্টলিস্টেড হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন ওঠে, ‘অনাপত্তিপত্র তাকে দেয়া হবে তো?’
তাকে আইপিএলের জন্য ছাড়পত্র দেয়া না দেয়া নিয়ে বুধবার মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘মোস্তাফিজকে যে ডিপার্টমেন্ট দেখে সেটা ক্রিকেট অপারেশন্স, আমার থেকে তারা ভালো বলতে পারবে। তারপরও এ ব্যাপারটা আমি আলোচনা করব। আইপিএলের সময় কি কি সিরিজ আছে। কোথায় তাকে বাংলাদেশের জন্য দরকার, কোথায় দরকার নাই এটা অপারেশন্স চিন্তা করবে।’
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, আইপিএলের জন্য মোস্তাফিজকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে, তবে শর্ত সাপেক্ষে। পুরো মৌসুমের জন্য মোস্তাফিজকে পাচ্ছে না কলকাতা। কারণ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে টুর্নামেন্টের মাঝপথে তাকে ফিরতে হবে বাংলাদেশে।
আইপিএল শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ। সবকিছু ঠিক থাকলে শুরু থেকেই নাইট রাইডার্স শিবিরে থাকবেন মোস্তাফিজ। আইপিএল চলাকালীন আগামী এপ্রিলে সাদা বলের দুই ফরম্যাটের সিরিজের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড। এই সফরের ওয়ানডে ম্যাচগুলো খেলতে ৮ দিনের জন্য আইপিএল ছাড়তে হবে তাকে।
এই প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, “মোস্তাফিজকে আমরা এনওসি দিয়েছি পুরো আইপিএলের জন্য। শুধু নিউজিল্যান্ড যে তিনটা ওয়ানডে ম্যাচ আছে, সেখানে ও জাতীয় দলের পক্ষে খেলতে চলে আসবে।”
এর নেপথ্যে আছে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি মূল পর্বে খেলা না খেলার সমীকরণও। মূলপর্বে সরাসরি খেলতে চাইলে ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে অন্তত শীর্ষ ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। সেই হিসেবেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল খেলাতে চায় বাংলাদেশ।
ক্রিকেট অপ্স চেয়ারম্যান নিজেও সেই কথা স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ, ওইটা নিশ্চিত করাটা আমাদের জন্য জরুরি যে ওখানে যেন আমরা আমাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে খেলতে পারি। সে কারণেই এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া।”
আইপিএলের মাঝপথ থেকে দেশে ফিরবেন ৮ দিনের জন্য। এরপর আবার মোস্তাফিজ যোগ দেবেন নাইটদের শিবিরে। এই অল্প সময়ের মধ্যে দুই ফরম্যাটের মধ্যে সুইচ করতেও সেটা বেশ ট্রাঞ্জিশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যদিও সেসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই ফাহিম বলছেন, একাদশে মোস্তাফিজের উপস্থিতিটাই তাদের কাছে বেশি জরুরি।
‘ও একটা টি-টোয়েন্টির পরিবেশে থাকবে, সেখান থেকে এসে ওয়ানডে খেলা। হ্যাঁ, আমরা বলতে পারি যে কিছুটা একটা ট্রান্জিশন থাকতে পারে। তবে ও যেখানে, যে লেভেলেই খেলুক না কেন খেলবে, যে কম্পিটিটিভ এনভারনমেন্টে থাকবে’, বলেন ফাহিম।’
যদিও আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে খেলে এসে জাতীয় দলের জার্সিতে আরো সেরাটাই মোস্ত্যাফিজ দেবেন বলে আশা ফাহিমের, ‘সেখান থেকে এসে এখানে আরেকটু বেশি কন্ট্রিবিউট করতে পারবে, এই এই সম্ভাবনাটাও কিন্তু থাকবে। সো আমরা সব হিসাব-কিতাব করে দেখেছি যে প্লাস মাইনাস করে যে ওর প্রেজেন্সটা আমাদের জন্য জরুরি। আমাদের এক্সিসটিং যেই স্ট্রেংথ আছে সেখানে ও থাকলে সেটা আরও বেশি শক্তিশালী হয়।’


