আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য সামনে রেখে এ বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর সরকারের শপথের বিষয় আছে। রোজার আগেই যেনো সব সুষ্ঠুভাবে হয় এসব বিষয় মাথায় রাখতে হচ্ছে।’
তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন এখনই বলা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করার নিয়ম আছে। সেই হিসেব মাথায় রেখেই ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই বা প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি এসেছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন কাজ শুরু করেছে। ’
এর আগে, নির্বাচন কমিশনের সভাকক্ষে দিনব্যাপী ইসির নবম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন এই নির্বাচন কমিশনার।
সভায় কী কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী সীমানা পুনর্বন্টন বা আসন বিন্যাসের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রার্থী ও দলের যেসব অভিযোগ ছিল, সেসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন বিন্যাস চূড়ান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে। তৃতীয় বিষয়টি হলো গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ বা আরপিও। এর সংশোধনীর কাজ চলছে। এটা আরও চলবে।’
এ বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তভূর্ক্তির কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটার তালিকা আইন সংশোধন হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে এবং যারা ভোটার হতে পারবেন।’
প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে যত বাংলাদেশি নাগরিক আছেন, সবাই যাতে ভোট দিতে পারেন সেজন্য আগে থেকেই কাজ শুরু হচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে প্রবাসী ভোটারদের। এরমধ্যে তারা রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন।’
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ভোটের জন্য গাইডলাইন দিতে এডুকেশনের কাজ করা হবে।’
প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা প্রবাসীদের কাছে সেসব প্রতীক সম্বলিত ব্যালট পাঠানো হবে। একটি বা দুটি পেজে সব প্রতীক থাকবে, কারো নাম থাকবে না। পরবর্তীতে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা দেখে তাদের প্রতীক অনুসারে ভোট দেবেন প্রবাসীরা।
পোস্টাল ভোটের পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে বলেও এসময় জানানো হয়।
এছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও অনলাইনে ভোট দিতে পারবেন।
তবে ভবিষ্যতে দেশের ভেতরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা যাতে ভোট দিতে পারেন সেজন্য এবার কোনো হাসপাতালে পোস্টাল ভোটিংয়ের পাইলট প্রজেক্ট করা হতে পারে বলেও এসময় জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে অপতথ্য না ছড়ায়, তা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন কাজ করবে। এই লক্ষ্যে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হেয় করতে কেউ যেনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপতথ্য না ছড়াতে পারে তা প্রতিহত করার বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ না কমিয়ে বা কোনো নাগরিক সেবা লঙ্ঘন না করে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজসহ অন্যরা।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনের দিনব্যাপী বৈঠকের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।


