স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, গুলশান, বনানীসহ ঢাকার লেকগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও পানি প্রবাহ সচল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লেকগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজধানীর লেক ও খাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, লেক ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে রোববার বিকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ রাজউক-এর চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এবং বারিধারা সোসাইটির সভাপতিরা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আয়োজিত এ সভায় ঢাকা মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেক ও খাল পরিষ্কার, পানি প্রবাহ সচল রাখা, যানজট নিরসন এবং বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে নগর পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদার করার কথা জানিয়ে এ কাজে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম আরও জানান, সরকার একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সকল অবকাঠামোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবাধ প্রবেশাধিকার ও চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত সব রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য র্যাম্প ও আলাদা টয়লেট স্থাপনকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সুবিধা স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন বন্ধ রাখা হবে। এ ছাড়া তিনি নতুন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে সিটি কর্পোরেশনকে সংশ্লিষ্ট সোসাইটি থেকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন।
নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সোসাইটিগুলোর প্রতিনিধিদের সিটি করপোরেশন ও রাজউকের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকার কর্মপরিকল্পনা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় রাজউকের সংশোধিত আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণে সেপটিক ট্যাংক ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরনো ভবনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক এবং দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের ক্ষেত্রে রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় ঢাকার লেকগুলোকে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ওয়াটার বাস চালু, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট হ্রাসের পাশাপাশি সামগ্রিক নগর পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশন, রাজউক ও সোসাইটিগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।
তিনি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেকগুলোতে সম্পূর্ণভাবে স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে শহরের নির্ধারিত কিছু পয়েন্টে পশু-প্রাণীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা রাখার মানবিক পরামর্শও দেন তিনি।
সভায় রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


