‘কুলি’ দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখার পর প্রায় দুই যুগ কেটে গেছে নায়িকা পপির। অভিনয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এখন আর নেই, সংসারেই বেশি সময় কাটে তার। তবে চলচ্চিত্রের জগৎ পুরোপুরি ছাড়েননি তিনি। বরং নতুন এক ইচ্ছা নিয়ে ফিরতে চান ক্যামেরার পেছনে—নিজের জীবনের গল্প নিয়ে সিনেমা বানানোর ইচ্ছা।
অভিনয়জীবনের দিকে ফিরে তাকালে কোনো আফসোস নেই পপির। অল্প সময়ে অনেক সিনেমায় কাজের সুযোগ, ভালো পরিচালক ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—সবকিছুকেই তিনি দেখেন জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে।
পরিবারের সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধে চলছে দীর্ঘদিন। এ ব্যাপারে তাকে পূর্বে রাজ্জাক, শাবানা, ববিতারা সতর্ক করেছিল। তিনি শুনেননি। এ নিয়ে বর্তমানে আফসোস করেন। তবে চলচ্চিত্রের মানুষদের অনেককে এখনও নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন মনে করেন পপি। তার ভাষায়, ‘ফিল্মের মানুষদের থেকে কিছুটা আঘাত পেলেও তা কখনো মনে রাখিনি।’
দীর্ঘদিন অন্যের গল্পে অভিনয় করেছেন পপি। এবার নিজের গল্প নিয়েই সিনেমা বানানোর ইচ্ছা তার। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে বায়োপিক তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি। নিজের বায়োপিকে নিজে অভিনয় করবেন কি না, তা এখনও ঠিক করেননি। তবে সিনেমাটি প্রযোজনা করার ইচ্ছা স্পষ্ট জানিয়েছেন—অভিনয়ের চেয়ে এখন তার আগ্রহ বেশি প্রযোজনার দিকে।
বায়োপিক নির্মাণ নিয়ে কোনো পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা? পপি জানান, পরিচালক বা তার জীবনের কোন কোন অংশ গল্পে তুলে আনবেন তা নিয়ে এখনও ভাবেননি।
চলচ্চিত্রের মতো সংসারেও দায়িত্ব কম নয় পপির। অবসর সময় খুব বেশি পান না তিনি। যতটুকু সময় থাকে, নামাজ-রোজা, স্বামী ও সন্তানকে নিয়েই কাটান বলে জানান। অভিনয়ে না ফেরার পেছনে স্বামীর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধও চলছে তার, যা নিয়ে তিনি একসময় সতর্কও করা হয়েছিলেন সহকর্মীদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি এখন মন দিয়ে সংসার করছি। আমার স্বামী আমাকে অনেক যত্ন করে, অনেক বেশি আগলে রাখে।’
সম্প্রতি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ভুল করেছেন— তার এমন বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের কথা বলিনি কাউকে। কে বা কারা এটি অনলাইনে ছড়িয়েছে আমার জানা নেই।’
সন্তান আয়াতকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই পপির। তিনি চান, আয়াত আগে একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠুক। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে শেখা শিক্ষাই এই ভাবনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।
আলোর ঝলকানি থেকে অনেকটা দূরে থাকা এই নায়িকা শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের একটি ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। ‘সুন্দর এই পৃথিবী থেকে শেষ বিদায় সম্মানের সঙ্গে নিতে চাই।’


