শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ হালনাগাদ করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
সোমবার এই নতুন বিধিমালা জারি করা হয়। পূর্বের বিধিমালায় একাধিক সীমাবদ্ধতা থাকায় তা দূর করে নতুন চাহিদা, বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিগত বিবেচনা যুক্ত করেই এবারের হালনাগাদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আগের বিধিমালায় কেবল ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে ক্ষমতা থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বিধিমালায় ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণকারীকে জরিমানা করতে পারবেন। এ পদক্ষেপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
এ ছাড়া নতুন বিধিমালায় হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগের বিধিমালায় হর্ন আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রিতে কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় হর্ন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু নতুন বিধিমালায় এ বিষয়ে স্পষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে হর্ন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর সঙ্গে নতুন বিধিমালায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে। নির্দেশনায় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যাম্প্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া নীরব এলাকায় পটকা, আতশবাজি, হর্ন বা অনুরূপ শব্দসৃষ্টিকারী যেকোনো পণ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় রাতের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আদেশ দেওয়া হয়। শিল্পকারখানা ও জেনারেটরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন সংযোজন ছাড়াও সড়ক পরিবহন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দণ্ড নির্ধারণের উল্লেখ রয়েছে এ নির্দেশনায়।
নতুন বিধিমালা প্রণয়নের আগে অংশীজনদের নিয়ে সভা কর্মশালা, মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত এবং জনগণের মতামত নেওয়ার মাধ্যমে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বেস্ট প্র্যাকটিস পর্যালোচনা করে ২০০৬ সালের বিধিমালার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধিত এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।


