কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের কারণ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
সোমবার দুপুরে আগুন লাগার ঘটনার সবশেষ তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানানো হয়।
রোববার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এই আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে ১১৩টি শেল্টার (শরণার্থী আশ্রয়) এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮৯টি শেল্টার। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার ৯টি স্থাপনা সম্পূর্ণ এবং ১৩টি স্থাপনা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রাতে আগুন মুহূর্তের মধ্যেই ব্লকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন পার্শ্ববর্তী আলীখালী ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্তত দুটি ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কাজ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), সেনাবাহিনী, ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভাতে সহায়তা করেন।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা জামিন মিয়া জানান, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো হয়।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, আলীখালী ও লেদা ক্যাম্পের মধ্যবর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগুনের কারণ সম্পর্কে জানানো হবে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ১০টি শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


