শক্তিশালী তুষারঝড়ে নিউইয়র্কে নগরজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

শক্তিশালী তুষারঝড়ে নিউইয়র্কে নগরজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী তুষারঝড় আঘাত হানায় নিউইয়র্ক নগরজুড়ে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে সোমবার নগরীর স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে উত্তরের অঙ্গরাজ্য মেইন পর্যন্ত কয়েক কোটি মানুষ দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিছু এলাকায় দুই ফুট বা প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে নিউইয়র্কে হালকা তুষারপাত ও ‘ফ্রিজিং ফগ’ রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা নেমে আসে ৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (মাইনাস ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মেরিল্যান্ড থেকে দক্ষিণ-পূর্ব নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত দ্রুত তুষারঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা ভ্রমণকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ করে তুলতে পারে।

ঝড়ের তীব্রতম সময়ে ঘণ্টায় দুই থেকে তিন ইঞ্চি হারে তুষারপাত হতে পারে। প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ বাসিন্দা এর প্রভাবপথে রয়েছে। সোমবার ভোরেই ঝড় নিউইয়র্কে আঘাত হানে। দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে ব্রুকলিন থেকে ওয়াল স্ট্রিট-এর আকাশচুম্বী ভবনগুলো প্রায় দেখা যাচ্ছিল না।

ভারী তুষারপাত ও দমকা হাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট পাওয়ার আউটেজ. ইউএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে নিউ জার্সি-তে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।

ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

৮০ লাখের বেশি জনসংখ্যার নিউইয়র্কে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে নিউইয়র্ক সিটি এ ধরনের ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি।’

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ব্যাখ্যায় তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তবে জরুরি সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

বস্টনে মেয়র মিশেল উ সোমবার সব সরকারি স্কুল ও পৌর ভবন বন্ধ ঘোষণা করেন।

এনডব্লিউএস সতর্ক করেছে, ভারী তুষার, প্রবল বাতাস ও কম দৃশ্যমানতার কারণে চলাচল ‘বিপজ্জনক থেকে অসম্ভব’ হয়ে উঠতে পারে। রোববার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত ঘণ্টায় ৬০ মাইল (১০০ কিলোমিটার) বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

ডেলাওয়্যার থেকে কেপ কড পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি থেকে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই একই অঞ্চল আরেকটি বিধ্বংসী শীতকালীন ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে।

ক্যাথি হোচুল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় এখনো বাকি।’ তিনি বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও পোষা প্রাণীর খাবার সংগ্রহ করে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad