সিরিজে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প নেই। পা হড়কালেই সিরিজ ফস্কাবে বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এমন সমীকরণের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৭১ রান। লিটন দাসের ফিফটি, পারভেজ হোসেন ইমনের ৪৩ রানের ইনিংসে গড়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সাইফউদ্দিনের ৭ বলে ১৭* রানের ক্যামিওতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। শনিবার চট্টগ্রামে দুই বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরলেন লিটনরা।
যদিও এর আগে শেষ দুই ওভারে বেশ কবার ম্যাচ পেন্ডুলামের মতো দুলেছে এদিক ওদিক। নুরুল হাসান সোহানের বোল্ড আউট, বেশ কয়েকটা ডট বল, সাইফউদ্দিনকে জশ লিটলের ম্যানকাডিং করতে চাওয়ার চেষ্টা সবই এর অংশ। শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য হাতে পাঁচ উইকেট রেখে ১৬ রানের দরকার ছিল বাংলাদেশের। মার্ক অ্যাডেয়ারের করা প্রথম বলে নুরুল হাসান সোহানের দুই রান। কিন্তু পরের বলেই ইনসাইড এজে বোল্ড এই ডানহাতি ব্যাটার।
তবে সেই চাপে দলকে পড়তে দেননি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তিন বলের ব্যবধানে একটি করে ছক্কা ও চারে ম্যাচ নিয়ে আসেন হাতের মুঠোয়। শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহেদী সিংগেল নিলে পরের বল ডট দিয়ে আরেকটা সিংগেল নেন সাইফ। চতুর্থ বলে দারুণ এক কভার ড্রাইভে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন মাহেদী। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো ১৭০ বা ততোধিক রানা তাড়া করে জিতল বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও এই ম্যাচে রান পেয়েছেন লিটন, ইমন, সাইফরা। যদিও রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় ওভারেই ইমনের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন তানজিদ তামিম। শর্ট মিড উইকেটে বল ঠেলে সিংগেলের জন্য ছুটলেও ইমন মানা করে দেন। তবে ব্যাটিং মার্কে ফিরতে ফিরতে তখন দারুণ এক থ্রোতে উইকেট ভেঙে দেন বেরি ম্যাকার্থি।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে ইমনের সাথে জমে উঠে লিটনের জুটি। ৪৩ বলে ৬০ রান তুলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই দুজন, যার শুরুটা ইমনের হাত ধরে। প্রথম ওভারেই ম্যাথু হামফ্রিসকে ছক্কা মেরেছেন দর্শনীয় এক স্লগ সুইপে। পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ২৮ বলে খেলেছেন ৪৩ রানের ইনিংস। যদিও গ্যারেথ ডিলানিকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট থার্ড ম্যানে থাকা জর্জ ডকরেলের হাতে।
ইমন ফিরলেও অন্য প্রান্ত থেকে শট খেলতে থাকেন লিটন। ছক্কা মেরে ৩৪ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৬-তম ফিফটি। সাইফ হাসানের সাথে গড়েছেন ৩১ বলে ৫২ রানের জুটি, যেখানে তার অবদান ১৬ বলে ৩১। যদিও তিনটি করে ছক্কা ও চারে ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস থেমেছে মার্ক অ্যাডেয়ারের বলে। লিটনের বিদায়ের পর আগের ম্যাচে একা লড়াই করা তাওহিদ হৃদয়ও সুবিধা করতে পারেননি। নুরুল হাসান সোহানের সিংগেলের কলে সাড়া দিয়ে রান আউট হয়েছেন উইকেটকিপার টাকারের দারুণ এক থ্রোতে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিং আর টিম টেক্টরের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। তাদের ওপেনিং জুটিতে উঠে ৫৭ রান। প্রথম ওভারে মাহেদী দেন ১৩ রান। পরের ওভারে নাসুম আহমেদ এসে আরো খরুচে, তার ওভারে আইরিশরা তিলে ১৪ রান। তৃতীয় ওভারের শুরুতেই ফ্লাডলাইট বিভ্রাটে বন্ধ থাকে খেলা। অবশ্য মিনিট দশেক খেলা বন্ধ থাকলেও আইরিশদের অ্যাটাকিং ব্যাটিং থামেনি। সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে আইরিশ অধিনায়ক স্টার্লিং দুই ছক্কা আর তিন চারে ১৪ বলে করেন ২ রান।
তিনে নামা হ্যারি টেক্টর ব্যক্তিগত ১১ রানে স্টাম্পিং হলেও তার ভাই টিমের তাণ্ডবে পাওয়ারপ্লেতেই ৭৫ রান তুলে ফেলে আয়ারল্যান্ড। পাওয়ারপ্লেতে ঝড় তুলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগালেও বাংলাদেশ সেটা সামলে উঠে মিডল ওভারে মাহেদীর দুর্দান্ত বোলিংয়ে। ১৫ রানের ব্যবধানে আইরিশদের তিন উইকেট তুলে নেন এই অফস্পিনার। দলীয় ৮৮ রানে হ্যারি স্টাম্পিং হন তার বলে। একই ওভারে চার বলের ব্যবধানে বোল্ড হন টিম। ১০৪ রানে বেন কালিটজও মাহেদীর শিকার হন লিটনের কাছে স্টাম্পড হয়ে। ৪ ওভারের স্পেল তিন শেষ করেছেন ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে।
মাঝের এই ধাক্কা অবশ্য আইরিশরা সামলে উঠে লরকান টাকারের ৩২ বলে ৪১ রানের ইনিংসে। মাহেদীর দারুণ বোলিংয়ের ইনিংসে বেশ ঝড় ঝাপ্টা গেছে একাদশে ফেরা সাইফউদ্দিন আর মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর। ৪ ওভারে করে বোলিংয়ের পর দুজন রান দিয়েছেন ৪০ ও ৩৯ রান করে। তিন ওভার বল করে ১৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তানজিম সাকিব।


