লক্ষ্মীপুরে ‘অবৈধভাবে’ প্রস্তুত করা ভোটের ছয়টি সিলসহ আটক ব্যবসায়ী সোহেল রানাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় দুজনের নামে মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে লক্ষ্মীপুর শহরের জুবলি দিঘির পাড়ে অবস্থিত মারিয়াম প্রিন্টার্স থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, এ ধরনের ভোটের সিল তৈরি সম্পূর্ণ অবৈধ।
আটক সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, অপরিচিত একজন তার কাছে ছয়টি সিল তৈরির অর্ডার দিয়েছিল।
গ্রেপ্তার সোহেল রানা টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে এবং জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মারিয়াম প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী। আটকের দিন তার দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় ওই দিন রাতে জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সিলকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সোহেল রানাকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রেজাউল করিম সোহেল জানান, আটক ব্যক্তি জামায়াতের কেউ নয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে এবং সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, জবানবন্দিতে সোহেল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শরিফ হোসেন সৌরভ নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন, যিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক বলে তিনি দাবি করেন।


