রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও অর্থবহ করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

আরও পড়ুন

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরেও সীমান্ত বাণিজ্য চালু করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ এবং হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালুর প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়। তাদের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এ ছাড়া নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad