বাংলা গানের এক অনন্য সময়ের সাক্ষী, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করা কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ জানালেন, তার সংগীতচর্চার শিকড় পরিবারেই প্রোথিত। টাইমস অব বাংলাদেশের ‘রিদম অব টাইমস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন শৈশব, সংগীতজীবন, বন্ধুত্ব, প্রযুক্তি ও সময়ের বিবর্তন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা।
টাইমস অব বাংলাদেশের ঈদের বিশেষ আয়োজন ‘রিদম অব টাইমস’। সৌর বাপ্পার উপস্থাপনায় ফেরদৌস ওয়াহিদের পর্বটি টাইমস অব বাংলাদেশের ফেসবুক ও ইউটিউবে দেখা যাবে ঈদের দিন (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায়।
শুরুটা কেমন ছিল—এ প্রশ্নে তিনি ফিরে যান ছোটবেলায়। ‘গান আসলে পারিবারিকভাবে। বাবা খুব গানপ্রিয় ছিলেন। প্রতি রবিবার বাসায় আড্ডা বসতো, গান-বাজনা হতো,’ বলেন তিনি। সেই পরিবেশেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। তিনি স্মরণ করেন, একদিন তাদের বাসায় অতিথি হয়ে আসেন কিংবদন্তি শিল্পী আব্দুল আলীম। ‘আমি গুটিশুটি হয়ে তার পাশে বসে গান শুনতাম। সেই থেকে তার কণ্ঠ আমার কানে বাজে,’—এই অভিজ্ঞতাই তার সংগীতপ্রেমকে আরও গভীর করে।
বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে উঠে আসে বাংলা গানের আরেক স্বর্ণযুগের নামগুলো—আজম খান, ফকির আলমগীর, লাকি আখান্দসহ অনেকেই। শৈশবের বন্ধু লাকি আখান্দের সঙ্গে স্কুলজীবনের স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, ‘টিফিন পিরিয়ডে আমরা একসাথে বসতাম। গান করতাম, গল্প করতাম।’ পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই বন্ধুত্ব আরও বিস্তৃত হয় এবং গড়ে ওঠে এক শক্তিশালী সংগীতধারা।

নিজের জনপ্রিয় গানগুলোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেক গানই বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক অনুপ্রেরণার ফল। ‘মামুনিয়া’ কিংবা ‘আগে যদি জানতাম’—এসব গান নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি লাকির কাছে চির কৃতজ্ঞ। এই গানগুলো সে আমাকে দিয়ে গাওয়ালো।’
সংগীতের পাশাপাশি নির্মাণেও কাজ করেছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। পরিচালক হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সৃষ্টির উন্মেষ থেকেই। গান করতে করতে মনে হয়েছে অন্য মাধ্যমেও কাজ করি।’ টেলিফিল্ম, ডকুমেন্টারি ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের অভিজ্ঞতাকে তিনি দেখেন সৃষ্টিশীলতারই সম্প্রসারণ হিসেবে।
এক সময় কানাডায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে বলেন, ‘আমার সংগীতের প্রতি ভালোবাসা এতই প্রকট ছিল। আমাকে আর কেউ ধরে রাখতে পারেনি।’ তার মতে, প্রবাসে সুযোগ থাকলেও দেশের মতো সংগীতচর্চার পরিবেশ পাওয়া যায় না।
বর্তমান সময়ের গান নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও আছে তার। তিনি মনে করেন, ‘এখন সবকিছু সহজ হয়ে গেছে। শ্রোতার কানও সহজ হয়ে গেছে।’ তবে এটাকে তিনি হতাশার কারণ হিসেবে দেখেন না, বরং সময়ের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবেই গ্রহণ করেন।


