আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান ও কুয়েত।
বৃহস্পতিবার সই হওয়া এই চুক্তির আওতায় কুয়েতকে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেবে পাকিস্তান।
নতুন চুক্তিটি ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির সম্প্রসারিত রূপ। কয়েক সপ্তাহ আগে কুয়েত ওই চুক্তি অনুমোদন করে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলাদা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সফরে থাকা কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সামরিক সদর দপ্তরে আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিকভাবে সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ‘প্রটোকল অ্যাগ্রিমেন্ট ২০২৬’ ২০২৩ সালের জুনে সই হওয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত করেছে।
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাতে কুয়েতও হামলার মুখে পড়েছে।
জুলাইয়ে রয়টার্স পাঁচটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, পাকিস্তান ও কুয়েত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত দেশটিতে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে আগ্রহী ছিল। এর মধ্যে কয়েক হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়ও আলোচনায় ছিল। তবে সে সময় পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে না।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বদলে দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে পাকিস্তান। বিশেষ করে জ্বালানি উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিন দেশই অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরে তা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করছে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পাকিস্তান ও কুয়েতের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে সম্মত হন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশ তাদের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক সুবিধাজনক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


