বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (সুপার টাইফুন) ‘রাগাসার’ আঘাতে তাইওয়ানে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে অন্তত ১৮ জন আহত এবং ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও টানা বৃষ্টি নিয়ে হংকংয়ে আছড়ে পড়ে ‘রাগাসা’। তারই প্রভাবে দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে প্রবল বৃষ্টি হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রতিবেশী অঞ্চল হংকংয়ে সরাসরি আঘাত হানলেও সুপার টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন কাউন্টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটির হ্রদের পানি উপচে গোটা এলাকা নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। তাইওয়ানের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, সোমবার থেকেই সুপার টাইফুন রাগাসার কারণে টানা ভারী বর্ষণ হওয়ায় অঞ্চলটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এএফপি’র খবরে বলা হয়, হুয়ালিয়েনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লি কুয়ান-তিন জানান, হুয়ালিয়েনের উপকূলেই আছড়ে পড়েছে রাগাসা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনীর সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের আঘাতে এ পর্যন্ত হুয়ালিয়েনে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। শহরের অনেক এলাকা দোতলা সমান উচ্চতার পানিতে ডুবে গেছে।’
এদিকে এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র চীনের হংকংয়ের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে সুপার টাইফুনের আঘাতে বহু সড়ক ও আবাসিক এলাকা তলিয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে ফুলারটন হোটেলের কাঁচের দরজা ভেঙে ভেতরে সাগরের পানি ঢুকে পড়ে।
সমুদ্রপাড়ের চিউং কুয়ান ও এলাকার সুউচ্চ আবাসিক ভবনগুলোও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লানতাউ শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাগাসার প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

হংকংয়ের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক বার্তায় বলেছে, ‘আগে যে অঞ্চলগুলো নিরাপদ ছিল, সেগুলোও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সমুদ্র ভয়ঙ্কর উত্তাল।’ সংস্থাটির তথ্যমতে, সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানে সুপার টাইফুন রাগাসা।
বুধবার সকালে হংকংয়ে ‘টাইফুন সিগনাল ১০’ জারি করা হয়, যা ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ৭২৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণশক্তি নিয়ে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রদেশটিতে ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাস। বুধবার দুপুর থেকে বিকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি সেখানে আছড়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে গুয়াংডং থেকে ৭ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। স্কুল ও গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পাশপাশি বাতিল হয়েছে গুয়াংজু ও শেনঝেনের ব্যস্ত বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট।
চীন সরকার এ বছর প্রথমবারের মতো সমুদ্রে সর্বোচ্চ লাল তরঙ্গ সতর্কতা (রেড ওয়েভ অ্যালার্ট) জারি করেছে। গুয়াংডং প্রদেশের কিছু এলাকায় দুই দশমিক আট মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।


