রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিয়ে সুরুজ কাজী নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত সুরুজ কাজী মাদারীপুরের ছেলে, উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে দালালের প্রলোভনে পড়ে যোগ দেন চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। সেই যুদ্ধেই গত ১৮ মে নিহত হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সংসারের হাল ধরতে রাশিয়ায় যান মাদারীপুর সদরের দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর বড় ছেলে সুরুজ কাজী। কয়েক মাস একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুরুজ। দেশে সংসার চালাতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। এর মাঝে সেখানে বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়ে যোগ দেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে।
ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ চলাকালে ১৮ মে ইউক্রেনের হামলায় নিহত হন সুরুজ। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টার দিকে পরিবারের কাছে মৃত্যুর সংবাদ দেয় রাশিয়ায় অবস্থানরত সহযোদ্ধা বাংলাদেশি এক যুবক।
একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকালে সুরুজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের আহাজারি। এর মাত্র ৩ মাস আগে রোগে ভুগে মারা যায় সুরুজের ২ বছর বয়সী ছেলেও।

নিহত সুরুজের মা নূরজাহান বেগম আর্তনাদ করে বলেন, ‘ওবাবা কী বিদেশ গেলা? বুকটা ফাইটা যায়। আমার বাবার লাশটা দেশে ফেরত চাই।’
অসচ্ছল পরিবারটিকে সরকারি সহযোগিতাসহ সুরুজের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পারিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের কাছে পরিবার থেকে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
এর আগেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


