রাজধানীতে ৬ দিনে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে ৬ দিনে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার থেকে রোববার পর্যন্ত ছয় দিনে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা রয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডা দারোগাবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে উদ্ধার করা হয় মামুনুর রশিদ (৩৫) নামে এক চাকরিজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু ইউসুফ উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে শ্রাবণী আক্তার পলি (২৮) নামে এক গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন উল্লেখ করেন, বুধবার বিকালে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে সাততলা থেকে লাফিয়ে পড়েন সৌরভ (২৭) নামের এক শিক্ষার্থী। মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রথমে তার পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরে জানা যায় তিনি উত্তরার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন এবং তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলায়।

আরও পড়ুন

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু মারমা জানান, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে সাততলা থেকে সৌরভ একেবারে নিচে পড়ে আহত হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। ওসি আরও বলেন, পড়ে যাওয়ার পর সৌরভের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ভেঙে যায়। এরপর তার সিমটি অন্য একটি মুঠোফোনে ভরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব রামপুরা অগ্নিশিখা গলির একটি বাসা থেকে আব্দুল্লাহ (২৪) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত পাল উল্লেখ করেন, আর্থিক সংকট ও বেকারত্বের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

একই দিন দুপুর ২টার দিকে ডেমরা মেন্দিপুর আমান মার্কেট এলাকার নিজ বাড়ির পাশে আবাদি জমির পানিতে পড়ে যায় অয়ন্তী নামে দুই বছরের এক শিশু। পরিবার দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দিন সকাল ৭টার দিকে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতনামা এক ভবঘুরে ব্যক্তির (৫০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে ভাটারা শোলমাইল দর্জিবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মনির গাজী (২৪) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মনির ফুডপ্যান্ডার রাইডার হিসেবে চাকরি করতেন।

একই দিন রাত ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম আশ্রাফাবাদ এলাকার একটি বাসা থেকে এনামুল ওরফে সুমন (২৫) নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়। কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজ কিশোর পাল বিষয়টি জানান।

সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাটারা সোলমাইদ ব্যাপারীবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় পূর্ণিমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহিণীর মরদেহ। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান উল্লেখ করেন, স্বামীর সঙ্গে সাংসারিক বিরোধ ছিল তার। এর জের ধরে স্বামী তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশুসন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ডেমরার ডগাইর পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে শাকিল হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব উল্লেখ করেন, শাকিল একটি প্যাকেজিং কারখানায় চাকরি করত এবং প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে বিরোধ তৈরি হওয়ায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad