রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন খুনের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন হত্যা মামলার আসামি বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোল্ডেন রাকিব ও সিরাজ। এ নিয়ে মোট চারজন গ্রেপ্তার হলো।
বুধবার র্যাবের মিডিয়া পরিচালক এ তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার রিয়াজুল হাসান ও আসামি আল আমিন মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রিয়াজুল হাসানকে পাঁচ দিন ও আল আমিন মাহিনকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের লিফট ও সিঁড়িসংলগ্ন এলাকায় ছুরিকারাঘাতে বিল্লালকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন মঙ্গলবার রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিল্লাল খাবার হোটেলে ব্যবসা করতেন। বিল্লালের ভাগিনা মোবারক হোসেন আকাশ মৌচাকের আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করে। আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা বিলের নাম করে চাঁদা তোলেন। ফুটপাতের ওপর নতুন কোনো দোকান বসলে বা বিভিন্ন ব্যবসায় কোন লোক বসবে, কোন লোক ব্যবসা ছাড়বে তা আসামিরা নিয়ন্ত্রণ করত। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি করে। আনারকলি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দিদারুলের সঙ্গে বিল্লালের ভাগিনা আকাশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেয়। দিদারুলসহ অপর আসামিরা রাত পৌনে ৮টার দিকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আকাশকেও মারপিট করা হয়। আকাশের চিৎকার স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান। এরপর বিল্লালকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিন রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিল্লাল।


