যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীত ও তুষারঝড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, গভীর তুষারপাত এক ফুটেরও বেশি (প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার) আর্কানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ মাইল দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সোমবার যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ ২০ ইঞ্চি (প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা মাইনাস ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।
তুষারঝড়ে টেক্সাস, লুইজিয়ানা, টেনেসি, পেনসিলভানিয়া ও সাউথ ক্যারোলিনাসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল নিউইয়র্ক শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, কিছু মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত হাইপোথার্মিয়ায়, আবার কিছু মৃত্যু হয়েছে বরফ ও তুষার পরিষ্কার করার সময় দুর্ঘটনায়।
এদিকে বরফ জমে দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেনেসি অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বরফে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে, গাছের ডাল ভেঙে গেছে এবং ভারী বরফের চাপে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে পড়েছে। উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির ন্যাশভিল এলাকায় বিপুল সংখ্যক গাছ ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এর মধ্যে টেনেসিতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার, মিসিসিপিতে দেড় লাখের বেশি এবং লুইজিয়ানায় ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।


