রাঙামাটিতে জমে উঠেছে ছয় দিনব্যাপী ‘সংস্কৃতির মেলা’, যা পাহাড়ি আদিবাসীদের বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ মার্চ থেকে সাবারাং ও রেজস্বি রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ মেলায় নারী উদ্যোক্তারা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন। অষ্টম বারের মতো সাবাংগী নারী উদ্যোক্তা সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা শেষ হবে ৫ এপ্রিল।
মেলায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ ও বেতের নান্দনিক পণ্য, হাতে তৈরি সৌন্দর্যবর্ধন সামগ্রী, কৃষিপণ্য থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কোমড় তাঁতের বস্ত্রপণ্যসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার নিয়ে মেলা জমে উঠেছে। অনেকেই খাচ্ছেন আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পাজন তরকারি। এ ছাড়াও খাদ্য স্টলে বিক্রি করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মজার মজার পিঠা। বিজু উপলক্ষে বানানো ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির স্টিকারযুক্ত টিশার্ট বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় ঘুরতে আসা বৈশাখী খীসা বলেন, প্রত্যেক বছর এখানে মেলা বসে। এ মেলায় এসে মজাদার পাজন তরকারি, পিঠা খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা বেলায় আদিবাসী নারীদের নৃত্য প্রদর্শনী বেশ ভালো লেগেছে। তবে খাবারের দাম আরেকটু কম হলে আরও ভালো হতো।
শ্রেষ্ঠী চাকমা বলেন, মেলায় এলে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির খাবার, পোশাক, বাঁশ ও বেতের বানানো নান্দনিক পণ্য দেখার যেমন সুযোগ হয় তেমনি কেনারও সুযোগ হয়ে থাকে। এ মেলায় এসে বান্দরগিলা নামে জঙ্গলের একটা পণ্য কিনেছি। যা এর আগে শুধু ছবিতে দেখতাম। এখন বাস্তবে নিজেই কিনেছি।
সাবাংগী নারী উদ্যোক্তা সমিতির সভাপতি রেনেসা চাকমা জানান, মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করা, স্থানীয় ঐতিহ্যকে পরিচিত করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করা।


