মেহেদী হাসান হৃদয়ের প্রথম ছবি ‘বরবাদ’ ছিলো সহিংসতায় ভরপুর। সেন্সর বোর্ড থেকে কিছু দৃশ্য কর্তনও করেছিলো ছবিটির। হৃদয়ের দ্বিতীয় ছবি ‘রাক্ষস’ ফার্স্ট লুকে আবারও আভাস রাখলেন সহিংসতার।
শুরুতেই চোখে পড়ে এক শিউরে ওঠা দৃশ্য। একটি সাদা বাথটাব, কিন্তু সেখানে পানি নয়- ভর্তি রক্ত। সেই রক্তের ভেতর পড়ে আছে একটি মৃত বাঘ। বাথটাবের পাশে দাঁড়িয়ে সাদা স্যুট–বুট পরা সিয়াম আহমেদ। তার চেহারায় একসঙ্গে বিধ্বংসী আর করুণ অভিব্যক্তি। মুখে গোলাপের ডাঁটা, এক হাতে চাইনিজ কুড়াল, অন্য হাতে পিস্তল। তিনি গুলি ছুড়ছেন মৃত বাঘটিকে লক্ষ্য করে। ক্যামেরা ধীরে ধীরে ওপরে উঠতেই দেখা যায়- ধবধবে সাদা একটি ঘর, যার মেঝে জুড়ে ছোপ ছোপ রক্ত। এক শটেই ‘রাক্ষস’-এর ভয়ংকর আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ছবিটি ফুলপ্যাক অ্যাকশনে ভরপুর। এতে যেমন প্রেমের জন্য যুদ্ধ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতা। হৃদয়ের ভাষ্যে, পরিচালক হিসেবে সহিংসতার ক্ষেত্রে তার একটি স্টাইল বা সিগনেচার রয়েছে। তিনি আশা করছেন ‘রাক্ষসে’ও তেমনটা পাবেন দর্শকরা। আর এটি অনেকটা ‘এনিমেল’-এর মত হবে।
এ ধরনের সহিংসতা দর্শকদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নে হৃদয়ের উত্তর, ‘মনে হয় না প্রভাবিত হবে। কারণ আমি মনে করি না সিনেমা হল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমার বিশ্বাস দর্শক বিনোদিত হবে।’
সহিংসতা প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘ভালোবাসার কারণে একজন মানুষ কতটা সহিংস হতে পারে, সেটাই এই সিনেমায় দেখানো হবে। দর্শক বিরক্ত হবে না, বরং পুরোপুরি বিনোদিত হবে।’
কেনো ‘রাক্ষস’-এর মত গল্পের সিনেমা সমাজের জন্য প্রয়োজন? এমন প্রশ্নের জবাব দিলেন সিয়াম আহমেদ। তার মতে, আমাদের সমাজে মানুষরা প্রতিনিয়ত অন্যায়, মামলা-হয়রানি দেখে, আর দিনশেষে নিজেকে বোঝায়— এ দেশে বিচার হবে না, প্রতিবাদ করেও লাভ হবে না। অথচ মানুষের ভেতরে একটা ফ্যান্টাসি সক্রিয় থাকে: কেউ যদি তাদের হয়ে দাঁড়াত, কেউ যদি ঢাল হয়ে অন্যায় ছিঁড়ে ফেলত।
সিয়ামের যুক্তি, যে দেশে ভালো, ভদ্র, পুতুলসদৃশ মানুষ দিয়ে কিছুই এগোয় না, সে দেশে সময় আসে রাক্ষসের। দর্শকের আবেগ এখন কোমল গল্প চায় না; চায় এমন আঘাত, যা প্রতীকের জায়গায় দাঁড়িয়ে বাস্তবের দম বন্ধ হওয়া ক্ষোভ উন্মোচন করে। তাই ফাইট যদি রাক্ষসের মতো হয়—তা হবে ছিঁড়ে খাওয়ার মতো নির্মম।
‘রাক্ষস’ ছবিটির জন্য সিয়াম আহমেদের প্রস্তুতি আট-নয় মাসের। এ সময়ের মাঝে তিনি রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’-এও অভিনয় করেছেন। এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন দুই ছবির পরিচালক-প্রযোজকের কাছে।
‘বরবাদ’ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জীর ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করছেন শেহরীন ইসলাম সুমী। এতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার সুম্মিতা চট্টোপাধ্যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকার কথা রয়েছে সাবিলা নূরের। বুধবার থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে ‘রাক্ষস’।


