জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়। অভিনেতার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে তার প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমকে জানান, আত্মহত্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয় অভিনেতা, মানবহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার কর্মী আরজে মিটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার ‘ফ্লিন’ হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন মিটি। সিরিজটিতে তার চরিত্রটি ছিল ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনয় করা ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে। অপরাধজগতের সঙ্গে বাবার সম্পৃক্ততা এবং পরিবারের নানা গোপন বিষয় সামনে আসার পর বাবা-ছেলের সম্পর্কের পরিবর্তন সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। সিরিজটি ১৬টি এমি পুরস্কার জিতেছিল।
জন্মগতভাবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন মিটি। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনীত চরিত্রটিরও একই শারীরিক অবস্থা ছিল। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চরিত্রটিকে পর্দায় তুলে ধরেন তিনি। তার অভিনয় টেলিভিশনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা বিস্তারে ভূমিকা রাখে। সিরিজে পরিবারের সকালের নাশতার দৃশ্যগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে ভক্তদের কাছে তার চরিত্রটি ‘ব্রেকফাস্ট কিং’ নামেও পরিচিতি পেয়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও সক্রিয় ছিলেন মিটি। স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। এ ছাড়া ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসির সেলিব্রিটি অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেছেন।
মিসিসিপির জ্যাকসনে জন্ম নেওয়া মিটিকে শৈশবে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। তিন বছর বয়সে তার সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হয়। শৈশবের বড় একটি সময় পায়ে ব্রেস ও ক্রাচ ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। পরে নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে সেগুলোর সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে সক্ষম হন তিনি।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর পর ‘দ্য রিকল’, ‘দ্য ওক রুম’ ও ‘ট্রায়াম্ফ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে অভিনয় করেন মিটি। ‘ট্রায়াম্ফ’ চলচ্চিত্রে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক স্কুলপড়ুয়া কুস্তিগিরের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
মৃত্যুর আগে নিজের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’-এর প্রচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিটি। সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি নিয়ে বিভিন্ন পডকাস্টেও কথা বলেন তিনি।
অভিনয় ও অধিকারকর্মী হিসেবে কাজের মধ্য দিয়ে বিনোদনজগতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আনতে ভূমিকা রেখেছেন এই অভিনেতা।


