দুর্গাপূজা এলেই শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রয়াত মায়ের জন্য মনখারাপ। বিশেষ করে পূজার সময় মায়ের হাতে তৈরি পায়েসের স্বাদ আর কখনো পাবেন না ভেবে আবেগাপ্লুত হন তিনি।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। পূজা এলেই তাকে খুব মনে পড়ে। মায়ের হাতে তৈরি পায়েসের স্বাদ আর কখনো নিতে পারব না।’
অভিনেত্রীর কাছে দুর্গাপূজা সব সময়ই আনন্দের উৎসব। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক নানা ঐতিহ্য। ছোটবেলায় মানুষকে পূজা উদ্যাপন করতে দেখার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। এ বছর সবার আনন্দে পূজা কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন অপু।
তিনি বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। আশা করি, এ বছর সবাই উৎসবের আমেজ অটুট রেখে আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করতে পারবেন। কোনো সমস্যা হবে না।’
শৈশবের স্মৃতিতে পূজা আবেগ জাগালেও কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অপু বিশ্বাস। তাঁর হাতে রয়েছে তিনটি নতুন সিনেমা। এগুলো হলো ‘শিকার’, ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’।
সম্প্রতি ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছিলেন তিনি। তবে আকস্মিক বন্যার কারণে শুটিং ব্যাহত হয়। কাজ শেষ না করেই বাংলাদেশে ফিরতে হয় তাকে।
অপু বলেন, ‘আমি পুরো কাজ শেষ করতে পারিনি।’
অন্যদিকে ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’ সিনেমার শুটিংয়ের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। তবে দুটি সিনেমারই কিছু কাজ এখনো বাকি।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপু বলেন, চলচ্চিত্রই তাকে আজকের অবস্থানে এনেছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প আবারও তার আগের গৌরব ফিরে পাবে বলে আশা করেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমাই আমাকে আজকের অপু বিশ্বাস বানিয়েছে। আমি ঢালিউডের সেই গৌরবময় দিনগুলো আবার দেখতে চাই।’ চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য তার বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান অপু।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের বিউটি পারলার পরিচালনা করেন তিনি। পণ্যের ফটোশুটে অংশ নেওয়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। আগামী ১৭ অক্টোবর একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করতে বগুড়া যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
অপুর জীবনে পরিবারের গুরুত্বও অনেক। গত ১১ অক্টোবর জন্মদিন উদ্যাপন করেন তিনি। এদিন বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হন ছেলের ভালোবাসায়। মাকে কেক কিনে দিতে ছেলে এক হাজার টাকা জমিয়েছিল।
অপু বলেন, ‘আমি খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ছেলের ভালোবাসায় মন আনন্দে ভরে গিয়েছিল।’
তার বিউটি পারলারে কর্মরত নারীরাও জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করেন। ভক্তরাও কেক কেটে দিনটি উদ্যাপন করেন। অপু জানান, কর্মীদের তিনি নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ মনে করেন। ভক্তদের ভালোবাসাকেও তিনি মূল্য দেন।


