রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন ঘিরে শেষ দিন মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন অনুষদ, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলজুড়ে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয় রঙিন পরিবেশ।
প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে ছুটেছেন এক হল থেকে আরেক হলে, এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে। হাতে ছিল লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার। চলেছে সরাসরি জনসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রতিশ্রুতির ঘোষণা।
রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী তাসিন খান বলেন, ‘মঙ্গলবার যেহেতু প্রচারণার শেষ দিন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সবার কাছে পৌঁছতে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সীমাবদ্ধতাও আছে। সবকিছু নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবীর বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের বৈচিত্র্য শিক্ষার্থীদের কাছে সাড়া ফেলেছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’

অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হচ্ছে তাই সবার মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। বারবার নির্বাচন পেছানোয় প্রচারণার সময় বেশি পেয়েছি, শিক্ষার্থীরাও ভালো সাড়া দিয়েছেন।’
রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য ২৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৩ জন এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।
সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৮ জন প্রার্থী। আর ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫টি পদের বিপরীতে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী লড়ছেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।
ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


