রাউজানে সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন তিনি।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানে সন্ত্রাস ও টার্গেট কিলিং ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত কিছু টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় প্রায়ই রাউজানের নাম উঠে আসে। আবার রাউজানের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে পাহাড়ি এলাকা থেকে অপরাধীরা আসে বলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা পুলিশ।’
‘গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাউজানে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় এলাকাটি কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছিল। পুলিশের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে নগরে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে রাউজানকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে,’যোগ করেন তিনি।
তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কোনো অভিযান পরিচালনা করতে চায় না পুলিশ।
এ বিষয়ে মাসুদ আলম বলেন, তিনি নতুন হওয়ায় রাউজানের ভেতরের পরিস্থিতি, স্থানীয় বাস্তবতা ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা এলাকাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হচ্ছে। কারণ সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা ছাড়া অভিযানে গেলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাউজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই সেখানে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কোনো সন্ত্রাসী কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। রাউজানে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একই মতবিনিময় সভায় জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও কথা বলেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, একসময় ‘রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেখানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান এর মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় দুটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।


